পবিত্র কদম রসুল দরগা শরীফে ভন্ড গাজা বাবা , বদনা পীর ধর্ম ব্যাবসায়ীরা বলে “ গাজায় টান মারিয়া সবাই বলেন আল্লাহু” নাউজুবিল্লাহ।

0
140

মোঃ মাহমুদুল হাসান বন্দর , নারায়নগঞ্জ থেকেঃ

কদম রসুল দরগাহ নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। দরগাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর কোল ঘেষে অবস্হিত। ধারণা করা হয় দরগায় রক্ষিত পাথরের ফলকের উপর অদ্ভুত পদচিহ্নটি প্রকৃতপক্ষে হযরত মুহম্মদ (সা:) এর পদচিহ্ন। যদিও বিষয়টি নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। পাথরের ফলকটি আকারে প্রায় ২৪০০ বর্গ সে: মি: এবং অনেকটা মানুষের পায়ের পাতার আকৃতিতে কাটা ।

ইতিহাসবিদদের মতে মাসুম খান কাবুলী নামে একজন আফগান রাজা/সেনাপ্রধান সপ্তম শতাব্দীতে এই নিদর্শনটি একজন আরব সওদাগর এর নিকট থেকে সংগ্রহ করেন। বর্তমানে যে মঠের ভেতরে কদম রসুলে ফলকটি রক্ষিত সেটি ১৭৭৭-৭৮ খ্রী: গোলাম নবী নামে ঢাকার একজন জমিদার এর হাতে নির্মিত। কদম রসুল এর ফলকটি মঠের কেন্দ্রে অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষিত। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিদিন বহু ধর্মপ্রাণ মুসলিম এই দরগায় আসেন। দরগার ভেতরে মঠটি ছাড়াও একটি বিশাল মসজিদ রয়েছে। বিশেষ করে দরগার প্রবশদ্বারের নির্মাণশৈলী সবার নজর কেড়ে নেয়। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্রগ্রামে এরকম আরো দুইটি দরগাহ রয়েছে। তবে নবীগঞ্জে  অবস্থিত কদমরসুল দরগাটিই সর্বাধিক পরিচিত ।

নারায়নগঞ্জ বন্দরের ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান কদম রসুল দরগা শরীফে লেগেছে গাজার ছোয়া। ভন্ড গাজা বাবাদের নৈকা ঠিকই পাহাড় তলী যাচ্ছে, কিন্তু তা প্রতিরোধে ব্যারর্ধ হচ্ছে এক শ্রেনীর ধর্প্রান মুসলমান।  মাজারের ভিতরেই হচ্ছে হচ্ছে গান বাজনা এবং গাঁজার সেবন। মাজারের নামে মুসলিমরাও লিপ্ত হয়েছে অগ্নি পূজায়। উপরের হাজার হাজার মোমের বাতি লাগিয়ে কি লাভ যদি ভিতরে অন্ধকার থাকে?   সিদ্ধান্ত নিন আপনি কোন পথের পথিক 

ঘটনাচক্রে গত দু’দিন আগে গিয়েছিলাম শীতলক্ষার  পাশে অবসি’ত কদম রসুল আলীর মাজার দেখতে । এর আগেও কয়েকটি মাজার দেখার সুযোগ হয়েছিল। মাজারগুলো যে এমন এটা না দেখলে বোঝানো মুশকিল। এ যেন শিরকের এক অভয়ারণ্য। আমি জানিনা পৃথীবীর আর কোন কোন দেশে শিরকের এমন অভয়ারণ্য আছে কিনা?  আমরা জানি যদি মাথা নত বা সিজদা করতে হয় তাহলে তা একমাত্র আল্লাহর সামনেই করতে হবে, আর এও জানি যে যদি কোন কিছু চাইতে হয় তাহলে সেটাও আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। কিন’ এই মাজার গুলোতে গেলে দেখা যায় যে সেজদা শুধু আল্লাহকে করলেই চলবে না বরং তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পীরের মাজারেও সেজদা করতে হবে- শুধু আল্লাহর কাছে নয় বরং প্রতিনিধি হিসেবে পীরের কাছেও চাইতে হবে! এটা সন্দেহাতিত ভাবেই সত্য যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে সেজদা করা শিরক-কবিরা গুনাহ। আর আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি শিরক ছাড়া অন্য যে কোন গোনাহ মাফ করবেন। অথচ শুধু অশিক্ষিত নয় বরং আমাদের দেশের কিছু শিক্ষিত মূর্খ এসব মাজারে গিয়ে অনায়াসে শিরক করে আসছেন! এই মাজারএ এমন কোন খারাপ কাজ নাই যা হয় না। মাজারের বাহিরে টাকা দেওয়ার জন্য এমন এক বিশাল ড্যাগ ঠিক করে রাখা হয়েছে এখানে এই কথাটা বলে নেয়া যায় যে, যেই বুজুর্গ ব্যক্তি মারা গিয়েছেন তিনি আল্লাহর কাছে হয়তো অনেক সুখ-শানি-তে আছেন কিন’ ওনাকে নিয়ে যারা এমন বাজে কাজ করছেন আমার বিশ্বাস নিশ্চিত সেই ব্যক্তি কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। এটাতো একটা সহজ বিষয় যে, যদি মৃত্যুর পরে কারো পক্ষে কোন কিছু করার সুযোগ থাকতো তাহলে তিনি হলেন আমাদের প্রিয় রাসূল (সা)। কিন্তু কই সেখানে গিয়েতো কেউ কোন কিছু চাওয়ার সুযোগ পান না। এমনকি তাঁকে নিয়ে তথাকথিত মাজারও তৈরী হয়নি। এ থেকে এটা সপষ্ট যে, কিছু ভন্ড মানুষ এই মাজার ব্যবসা নিয়ে বসেছেন। এরা নামাজ-কালাম তো দূরের কথা পাক পবিত্র অবস’ায়েও থাকেন না। অনেকেই মদ-গাঁজা নিয়ে বুদ হয়ে থাকেন। এখনতো আবার এই সংস্কৃতি বের হয়েছে যে, আমাদের দেশের নেতা-নেতৃরা কোন ভাল কাজ শুরু করার আগে মাজার জিয়ারত করে সেটা শুরু করেন!

আজ এই মাজার নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আপনাদের সামনে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিম্নে তুলো ধরা হলো:

অনুপ্রবেশ :
দক্ষিণমুখী বিশাল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল মাজারের সুপ্রশস- প্রাঙ্গণজুড়ে শত শত নারী পুরুষের অবস’ান। কেউ বসে, কেউ শুয়ে, কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা আবার আধশোয়া হয়ে। প্রায় মকার হাতেই সিগারেট বা কল্কে জাতীয় জিনিসপত্র। কি বাবা কি মুরিদ, কি মহিলা কি পুরুষ, কি বড় কি ছোট, যেন সিগেরেটে অভ্যস্ত না হলে মাজারেই অবস্থান করা যাবে না। একেক বাবার একেক বেশ। কারো বাবরী আছে দাড়ি নেই, কারো দাড়ি আছে বাবরী নেই। তবে সবার যেটা আছে সেটা হল জট। চুল দাড়িতে জট। আবার এর মধ্যে মহিলা দরবেশও আছে।

মনের বাসনা পূরণ:

ছবির ভাষায় কথাঃ যেীনকর্দের আধিপত্য বিস্তার

মাজারে হিজরা প্রবেশ।


মৃতবাবা কবর থেকে আবার মানুষের মনের বাসনা পূরণ করে কিভাবে? ভক্তের এমন প্রশ্নে বাবা কিঞ্চিত রাগ হলেন। কিন’ পরক্ষণেই বাবা নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দিলেন, ওই মিয়া, যেইটা বুঝো না ওইটা নিয়া কথা কও ক্যান? শোন, বাবা তো আর তোমার আমার মত সাধারণ মানুষ না, তিনি হইলেন আল্লাহর ওলি। তারা তো কবরে গিয়াও জিন্দা থাকেন। কিন্ত এই উত্তর ভক্তের মনে ধরেছে বলে মনে হল না। বাবা তাতে একটু হতাশই হলেন। তারপর আবার বলতে লাগলেন, আইচ্ছা তুমি বাবার কথা বাদ দেও। হাদিসে আছে, সাধারণ মানুষও কবরে গিয়া জিন্দা থাকে। কয়দিন? যতদিন হ্যায় দুনিয়াত হায়াত পাইবো। । মাজার প্রাঙ্গনে বসে এক বাবা তার ভক্তকে এভাবেই  বোঝাচ্ছিলেন। তিনি হাদিসের মত কুরআনের আয়াত দিয়েও রেফারেন্স দিতে যাচ্ছিলেন।

মাজারের কেরামতি :
মাজারের বাবারা নাকি সবধরনের সমস্যার সমাধান করে থাকেন। জামালপুর থেকে মানসিক অসুস’ মেয়েকে নিয়ে মাজারে এসেছেন নাছিমা বেগম। তার বিশ্বাস্ত বাবার কাছে মানত করে মেয়ের সুস’তা কামনা করলে তার মেয়ে সুস্থ হয়ে যাবে। এটা কার কাছ থেকে  শুনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের গ্রামে এক ফকির এ কথা বলেছে তাকে। তার কাছে জানতে চাইলাম, আর কী ধরনের উপকার মাজার থেকে পাওয়া যায়? তিনি বলেন, সব উপকারের কথা বলতে গেলে একমাস লেগে যাবে। তাতেও শেষ হবে কিনা সন্দেহ! মাজারে এসে বোবা মানুষ কথা বলতে পেরেছে। পঙগু মানুষ মাজারের শিরনী খেয়ে হাঁটতে পেরেছে। গুরুতর অসুস্থ বা এ্যাক্সিডেন্ট হওয়া মানুষকে অন্যরা মাজারে রেখে ফেলে গেছে, অথচ সেই মানুষ কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেছে। ফাঁসির আসামী মামলার রায় থেকে মুক্তি   পেয়েছে। এরকম বহু সমস্যার সমাধান নাকি ঘটে বাবার কৃপায়। মাজারে একটি শিরনী গাছ আছে সেখানে মানুষ মানত করে সুতা বাঁধে, মানত পুরা হলে সুতা খুলে ফেলে। অবশ্য শিরনী গাছ দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে সুতা বেঁধে কেউ তা খুলেছে কিনা। কে জানে, হয়তো মাজারের খাদেমরাই তা পরিষ্কারের জন্য খুলে ফেলে। তবে মহিলার কথা শুনে আমার মনে হলো, দোলোয়ার হোসেন সাইদি কে একবার মাজারে এনে দেখা যেতে পারতো!

রেনু ভান্ডারী:
একজন মহিলা। মধ্যবয়স্কা মহিলা। চেহারায় কম করে হলেও এক ইঞ্চি পুরু মেকাপ। মানুষের হাত দেখে তিনি অতীত ভবিষ্যৎ বলে দেন। তিনি যে শুধু গণক তাই নয়, তিনি আবার সিতারা বিবি আর ঠাকুর বাবার রোমান্টিক প্রেমের বর্ণনাও দেন। সাধারণ মানুষ সেগুলো হা করে গিলতে থাকে। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে তার হাত দেখা। বুধ বৃহষপতি শুক্র শনি রবি কোন গ্রহটা কোথায় অবস্থান করছে সব বলে দেন। জীবনে কয়টা ফাড়া (দুর্ঘটনা) গেছে আর কয়টা বাকি আছে তাও বলেন। যেগুলো বাকি আছে সেগুলো কতটা ভয়ানক তার আবার বিশদ বিবরণ দেন। মূলত এই বিবরণটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার ব্যবসা। অন্ধবিশ্বাসী পাবলিক ভীত হয়ে সেই ফাড়া কাটানোর পদ্ধতি জিজ্ঞেস করলেই তিনি গম্ভীর হয়ে যান। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ১১০১ টাকা লাগব!

মোমবাতি বাবা :
ষাটোর্ধ্ব বয়সের এক ক্ষীণকায় হাড্ডিসার বৃদ্ধ লালসালু পরে আধশোয়া হয়ে সিগারেট ফুঁকছেন। পরনের ময়লা লালসালু, মাথায় পেঁচানো ময়লা গামছা আর সিগারেটের গন্ধে এক অস্বসি-কর অবস্থা। সামনে দেড় হাত লম্বা মোটা একটা মোমবাতি জ্বলছে। তারও সামনে  তিন ফিট উচ্চতার একটা লোহার পাইপে ইঞ্চি খানেক পুরু হয়ে আছে মোমের আস্তরে। এই বৃদ্ধের পাশেই বসে আছে আরেক মধ্যবয়স্কা মহিলা। খাদেমা নাকি স্ত্রী তা বোঝা গেল না। আমার মতো আরো অনেকেই মোমবাতি বাবার সামনে ভীড় করে বাবার সিগারেট ফুঁকা দেখছে। (বাবার সিগারেট ফুঁকা দেখার মধ্যে কোনো ফয়েজ থাকলেও থাকতে পারে।) এখানে সবাই যে ফকির-দরবেশদের হাতে মুরিদ হতে কিংবা কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আসেন তা না, আমার মতো তামাশা দেখতে আসা লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কদম রসুলের  এলাকায় বসবাসরত জরিনা জানান, ছয় মাস যাবত অনেকটা নিয়মিতভাবেই তিনি এখানে আসেন। অফিস ছুটি হয়ে গেলে এখানে এসে তিনি সময় কাটান। তিনি জানান, তার দেখামতে এই মোমবাতি বাবার ব্যবসা সবচেয়ে তুঙ্গে। কিভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবার লোকজন মাজারের ভেতরে সবখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে মাজারে আসলে সুযোগ বুঝে তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাবার কাছে নিয়ে আসে। বাবা কথা খুব কম বলেন। যা বলার বাবার পাশের ওই মহিলা বলেন আর নিয়োগপ্রাপ্ত ভক্তরা বলেন। আংটি পাথর তাবিজ বা যে কোনো কিছুর বিনিময়ে একেক জনের কাছ থেকে হাজারখানেক করে টাকা হাতিয়ে নেন। লোক বুঝে আবার এই অংকের হেরফেরও হয়।

ধান্ধাবাজি :
এখানে এমন কোনো লোক নেই যার কোনো ধান্ধা নেই। সবাই কোনো না কোনো ধান্ধা নিয়ে মাজারে আসে। কেউ চুরির ধান্ধায়, কেউ ছিনতাইয়ের ধান্ধায়, কেউ বাবার কাছে লোক সংগ্রহ করে দিয়ে টাকা আয়ের ধান্ধায়, কেউ নেশাদ্রব্য বিক্রি, কেউ আবার তা ক্রয়ের ধান্ধায়, কেউ পতিতাবৃত্তি, কেউ পতিতাদের দিয়ে ব্যবসা, কেউবা আবার আরো ভয়ানক কিছুর পরিকল্পনার জন্যও বেছে নেয় এই জায়গাটিকে। ভেতরের প্রত্যেকটা চা-পান ফেরিওয়ালার কাছ থেকে আবার গেটের ওই আনসার দারোয়ান নির্ধারিত হারে চাঁদা ধরে। কেউবা আবার সহজ সরল মানত করতে আসা লোকদেরকে পটিয়ে তাদের কাছ থেকে মানতের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্ধাও করে। মোটকথা ধান্ধা ছাড়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম এখানে।

নেশাদ্রব্যের আখড়া :
কয়েকজন চা-বিস্কিট ফেরিওয়ালার বেশভুষা দেখে কেমন যেন একটু মাতাল মাতাল মনে হল। ব্যপারটা স্থানীয় একজনকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমাকে সমর্থন করলেন। বললেন, এরা শুধু নিজেরাই খায় না। আপনি এদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে, গাঁজা বা অন্য নেশার জিনিস কোথায় পাওয়া যাবে। দেখবেন এরা নিজেরাই আপনাকে তা সার্ভ করবে। বাস্তবেও তাই মনে হল। পুরো মাজার ঘুরে ভিতরেই কয়েক জায়গায় এর মজুদ আছে বলে মনে হল। গোপনে এক ফেরিওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয় ওই ব্যক্তির কথার সত্যতা মিলল। কিছু বখাটে টাইপ যুবককে মনে হল তারা এর সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। আঙ্গিনার ভেতরে কয়েক স্থানে বিভিন্ন গাছের ছায়াতলে বসে এরা এবং অনেক ভদ্র চেহারার মানুষকেও সুখটান দিতে দেখা গেল।

পতিতাবৃত্তি :
আপনি দেখে বুঝতেও পারবেন না যে এই মেয়ে পতিতাবৃত্তি করে। প্রথম দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, হয়তো কোনো ফকির-দরবেশের সেবিকা কিংবা কোনো টোকাই বা অন্য কিছু। কিন’ তারা যে দেহ বিক্রি করে বেড়ায় তা আপনার কল্পনায়ও আসবে না। এদের মধ্যে আবার দুই ভাগ আছে। একদল সত্যিই পতিতাবৃত্তি করে। আর আরেকদল আপনাকে লোভ দেখিয়ে আপনার সাথে চুক্তি করে চুক্তিমত নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে গিয়ে আপনার টাকা পয়সা মোবাইল সব রেখে দেবে। এই পতিতার দল আবার নিজে আপনার সাথে কথা বলবে না। এদের লোক আছে। মাস্তান মাস্তান চেহারার কিছু যুবককে দেখিয়ে জয়নাল বললো, এই যে এদেরকে দেখতে পাচ্ছেন, এরাই পতিতাব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। সব বয়সের পতিতাই আছে এদের কাছে। পতিতাদের দেখতে চাইলে একটু মাজার প্রাঙ্গনটা ঘুরে দেখেন। যাদেরকে দেখবেন এর ম্যাক্সিমামই পতিতা। আর বাকি কয়েকজন হয়তো আসছে মাজার জিয়ারতের জন্য।

মসজিদ থাকে খালি :
মাজারের পাশেই মসজিদ। সুবিশাল মসজিদ। দিনরাত সর্বদা হাজার হাজার লোকে মাজার লোকারণ্য থাকলেও নামাজের সময় মসজিদ থাকে খালি। নামাজে মসজিদে কাতার হয় মাত্র চার থেকে পাঁচটা। আর বাকি পুরো মসজিদ খালিই পড়ে থাকে। নামাজের সময় ছাড়াও মাজারপ্রেমীরা ভুলেও মসজিদমুখো হন না বলেই চলে। যত ইবাদত, মানত, চাওয়া পাওয়া সবই মাজার কেন্দ্রিক। মজার ব্যপার হলো, মাজারের খাদেমরা পর্যন্ত নামাজের সময় নির্বিকার বসে থাকেন মাজারে। ফকির-দরবেশ বাবারা যারা কুরআন-হাদিস দিয়ে কবরে বাবার জিন্দা অসি-ত্ব প্রমাণ করেন ভক্তদের কাছে তারা পর্যন্ত নামাজের সময় নির্বিকার বসে থাকেন। আরো আশ্চর্যের ব্যপার হল, কেউ তাদেরকে নামাজের কথা বললেও তাতে কান না দিয়ে আগের চেয়ে জোরগতিতে সিগারেটের ফিল্টারে কষে টান মারেন। যেন এর চেয়ে পুণ্য আর কিছুতে নেই।

মাজারে শিরকি কর্মকান্ড :
পানিত্তলে মোম বাতি/ বাওবাতাসে নিভে না/ বাবার নামে হালকা দিলে/ অজু গোসল লাগে না! অথবা মোল্লা মুনশি নমাজ পড়ে/ মারেফত ত জানে না/ বাবার নামে হালকা দিলে/ সতর ঢাকন লাগে না! দেশের নানা জায়গা থেকে নারী-পুরুষ একসাথে আসে। অধিকাংশ নারীই স্বামী ছাড়া আসে। এদের বলা হয় কাফেলা। মিরপুর মাজারের আশপাশে আস্তানা  গাড়ে। সরারাত ধরে চলে বাজনাসহ এসব উদ্ভট গানের সাথে জিকির। নারী-পুরুষের অবাধ মিলনে এসব হালকায় যখন চরম অবস্থা বিরাজ করে, তখন নারীদের গায়ের কাপড় খুলে যেতে থাকে! এমন সময় কোনো কোনো নারী সুর করে বলে- আইছি নেংটা, যাইবো  নেংটা, কাপড় দিয়া করি কী? গানের সুরে কখনো শুনা যায়- কেউ গাইছে, আল্লাহর ধন নবীরে দিয়া/ আল্লাহ গেছেন খালি হইয়া/ নবীর ধন বাবারে দিয়া/ নবী গেছেন খালি  হইয়া! মাজারের পাশে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য বনি আদম কবরের সামনে ষষ্টাঙ্গে প্রণামরত অবস্থায় ঘোরের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। লম্বা চুল, লম্বা গোঁফ, লালসালু, জটা, বিচিত্র রকমের পোশাক, কারো কাছে হিন্দুদের ত্রিশূল এসব নিয়ে এক নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয় প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুর মাজারে। মাজারে ঘটা শিরকি কাজ সমপর্কে আমরা কমবেশি সবাই জ্ঞাত। শাহ আলী মাজারে গিয়ে দেখা গেল এই মাজারও শিরক থেকে মুক্ত নয়। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখলাম আমার পাশের লোকটি মাজার থেকে বের হচ্ছে পিছন দিকে হেঁটে হেঁটে। মাজারের ভিতরে গিয়ে দেখলাম, লোকজন ধুমছে মাজারের দিকে ফিরে মোনাজাত করছে। কেউ দাঁড়িয়ে কেউ বসে। কেউ আবার মাজারের রেলিং ধরে অঝোরে কাঁদছে আর কুর্ণিশের ভঙ্গিতে তা চুমো খাচ্ছে। হয়তো মনে মনে কিছু প্রার্থনাও করছে। অনেকে আবার বসে কুরআন শরিফ পড়ছে। সবচেয়ে লোমহর্ষক দৃশ্যটি দেখতে হল মাজার থেকে বের হওয়ার সময়। এক ভদ্রলোক মাজারের সিঁড়িতে কবরমুখী হয়ে সেজদায় পড়ে আছে। টুপি পাঞ্জাবী পড়া নুরানি চেহারার খাদেমদের দেখলাম, তারা নির্বিকার ভঙ্গিতে ক্যাশ বাক্স আগলে ধরে বসে আছে। একটিবারের জন্যও তারা এমন জঘন্য শিরকি কাজ থেকে বিরত করছে না লোকটিকে। দারোয়ানকে এ ব্যাপরে জিজ্ঞেস করলে চোখ মুখ কুঁচকে বললেন, এরা হইল আরো হাই লেভেলের ভক্ত।

কেন এত মাজার :
বাংলাদেশের এমন কোনো থানা নেই যেখানে একটা বা দুটো মাজার নেই। কিন্ত কেন এত এত মাজার এই দেশে? ঐতিহ্যগতভাবেই এদেশের মানুষ অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার প্রতি দুর্বল। হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাবে কারো প্রতি বা কোনো বস’র প্রতি অলৌকিক ক্ষমতারোপের একটা বাতিক আছে উপমহাদেশীয় মানসিকতায়। হিমালয়ান অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই হিন্দু থেকে এসেছে ইসলামের ছায়াতলে। ফলে খুব কম অঞ্চলেই হয়েছে সঠিক আকিদার চর্চা। যে কারণে মাজারের প্রতি একদল জনতার টান নেশার মত। এছাড়াও আছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অর্থলোভী মানসিকতা, একদল ভবঘুরের জীবন-জীবিকার প্রচেষ্টা, ইসলামের আকিদা ও কুরআন সুন্নাহ বিষয়ে অমার্জনীয় অজ্ঞতা, সুফিবাদের ভুল চর্চা, আধ্যা্তবাদের বিকৃত উপস্থাপনা ইত্যাদি কারণেও মাজারের প্রসার হচ্ছে আমাদের এই দেশে। মাজার মানেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, গরু-ছাগল-মহিষের আগমন। এই কারণেও জায়গায় জায়গায় গড়ে ওঠেছে মাজার। নেশাখোর, গেঁজেল আর অলসদের অভয়ারণ্যের কারণেও জমে ওঠে মাজারের  বাজার।

কী হয় এসব মাজারে :
এককথায় শিরক, বিদাআত আর কুসংস্কারের এক মহা চলচ্চিত্র হলো দেশের মাজারগুলো। বছরে একবার ওরশের মাধ্যমে চলে অনৈতিক আর অধর্মের মহড়া। পরে আসছি সে প্রসঙ্গে। সারা বছর এইসব মাজারগুলোতে চলে বাবার নামে শিরনি দেওয়া আর তবারকের রমরমা ব্যবস্থা! ভবঘুরে, কর্মকষ্ট এড়ানো একদল অলস এবং মাজারের ভাগভাটোয়ারার দায়িত্বে থাকা মানুষেরা নিয়মিত উপসি’ত থাকে এই শিরনির উৎসবে। মাজারে চলে গায়রুল্লাহর প্রতি অবাধে সেজদা। মাজার নামক কবরে শায়িতজনের কাছে জানায় প্রান্তিক শ্রেণির  মানুষেরা তাদের মনের আকুতি। প্রায় প্রতিটি মাজারের পাশেই আছে কিছু ইট। এসব ইট উল্টিয়ে এর নিচে রাখা হয় মান্নতের টাকা। চারপাশে থাকে নিশ্ছদ্রি পাহারা। এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাজারের খাদেম বা স্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা। দেশের সব নাপাক জটাধারীদের  তীর্থস্থান এইসব মাজার। অবাধ বিচরণক্ষেত্র সব গাঁজারুদের। পর্দাহীনতার এক মিছিল যেন চলতে থাকে এখানে। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ঈমান-আকিদা ধ্বংসের পাশাপাশি চলে সমাজিক নিয়ম ও রাষ্ট্রীয় আইন লংঘনের মহাধুমধাম!

সাজায়েছি বাসর কত যতন করে
আইবানিগো লেংটা, তুমি আমার বাসরে!!হযরত শাহজালালের মাজারে যারাই ভক্তি ভবে আল্লাহু আল্লাহু বলে জিগির দিয়ে উঠে তাঁদের আচরণ কিছুক্ষন দূর থেকে দাঁড়ায়ে দেখলেই বুঝবেন তারা হাঁতে একটা কল্কে নিয়ে জোরে একটা দম দিয়া মুখ দিয়া একখান ধোয়া ছাইড়া চিক্কুর মাইরা উঠে ” পেয়ারা নবী(স)” আহা কি ভক্তি।সাধক গাঞ্জা বাবাকে ঘিরে থাকে কিছু মুরিদ। তারা কেয়ামতের শাফায়েতের আশায় গাঞ্জা বাবার মুরিদ হয়। পেয়ারা নবী কিছু করতে না পারলেও গঞ্জিকা সাধক লেংটাবাবা গেদু শাহ ঠিকই পুলসিরাতের কামটা ঠিকমত সাড়তে পারব।কি ভাই! লেংটা বাবারে চিনেন নাই? আরে যেই ব্যাটা নেংটা হইলেও কোন গুনাহ হয় না।সবাই তাঁর পোশাক দেখতে পায় না শুধু আসল ভক্তরাই তাঁর জামা কাপড় দেখে। যার আস্তানায় মাইয়ারা তাঁর খেদমত করে। ও আল্লাহ কি সুখ! নেংটা অবস্থায় মাইয়াগো খেদমত পাওয়া যায়। বিনিময়ে গেদু শাহ শাফায়েত দিব। শাহজালাল এর মাজারে আরও অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। ঢুকার মুখেই একটি নামাজের ঘর। একটু লাজ শরম ভুইলা ভিতরে তাকাইলেই দেখবেন কি সুন্দর সুন্দর হুর নামাজ পরতেসে। মাজারে ওরসের সময় আরও অদ্ভুত জিনিস দেখা যায়। ছালা পাগলা গাছ লইয়া দৌড়াইতেছে। একটা দুইটা না শ শ পিক -আপ ভ্যান ভাড়া কইরা জোরে জোরে গান বাজাইয়া পুরা মাজারগেট দখল কইরা গাছ লইয়া আল্লাহু আল্লাহু কইয়া জিগির করতেছে। আর মাইয়ারা শাড়ি খুইলা পেট বাইর কইরা সেই নাচন নাচতাছে।
আসুন আমরা সবাই বলি-
তোমরা যাও মক্কা মদিনা আমি যাব না
লেংটা বাবার চরণ বিনা আর কিছু নাই চাওয়া-পাওয়া
লেংটা বাবাই আমাদের শেষ আশা আর ভরসা।

মদ খেত এমনকি এলাকার মানুষের মুরগি চুরি করে খেত, সে মারা যাওয়ার পরে তার নামে মাজার বানিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা।
 


(একজন মহিলা সুতো বাঁধছেন।)


(বিশাল কাঠগোলাপ গাছ।)


(কাঠগোলাপ গাছের নিচে কবরস্থান।)


(কাঠগোলাপের এই ডাল টিতেই মহিলারা সুতা বাঁধেন, মানত করে।)


(কাছ থেকে সুতো বাঁধা কাঠগোলাপের সেই ডালটি।)


(ভিতর থেকে সামনে প্রবেশ তোরণ, ডানে মসজিদ আর বামে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মাজার।)


(ভিতর থেকে প্রবেশ তোরণ।)


(এক গম্বুজ বিশিষ্ট মাজার, এটার ভেতরেই রয়েছে সেই আশ্চর্য কদমরসুল পাথরটি।)


(মাজারের ভেতরে কদমরসুল পাথরটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দরগার প্রধান খাদেম।)


(কাছ থেকে কদমরসুল পাথর।)


(বিশাল কাঠগোলাপ গাছ।)


(কাঠগোলাপ গাছের নিচে কবরস্থান।)

একটি উত্তর দিন